১৯৭৩ সাল থেকে চলা এক কিংবদন্তি কেকের গল্প
হাওড়ার ছোট বেকারি থেকে আজও লক্ষ মানুষের প্রিয় টিফিন।
🧁 বাপুজী কেক: অফিসিয়ালি সংস্থার নাম “New Howrah Bakery (Bapuji) Pvt. Ltd.”, যা সাধারণভাবে “বাপুজী কেক” নামেই পরিচিত ।
বাপুজী কেক—এই নামটি শুনলেই বাঙালির মনে ফিরে আসে ছোটবেলার স্কুলের টিফিন, ট্রেনের কামরায় বসে ভাগ করে খাওয়ার মুহূর্ত, আর পাড়ার দোকানের সামনে লাইন দিয়ে কেনার স্মৃতি। ১৯৭৩ সালে শুরু হওয়া এই স্বাদের গল্প আজও অনেকের জীবনের অঙ্গ।
📜 কবে ও কিভাবে শুরু
১৯৭৩ সালে আলোকেশ জানা নামের এক উদ্যোগী ব্যক্তি হাওড়ার পল্লবপুকুরে একটি ছোট বেকারি থেকে এই কেক তৈরি শুরু করেন। কেকের দাম ছিল মাত্র ৬০ পয়সা, এবং প্যাকেটের উপরে লেখা থাকত “Bapuji”—যা আজ একটি অমূল্য ব্র্যান্ড।
🏭 কোথায় তৈরি হয়
প্রথমে কেক তৈরি হতো হাওড়ায়। পরে ব্যবসা বাড়তে শুরু করলে, লেকটাউন (কলকাতা) ও শ্রীরামপুর (হুগলি) তেও নতুন কারখানা গড়ে তোলা হয়। এখনো কেক তৈরি হয় কিছুটা হাতে ও কিছুটা মেশিনে—যাতে পুরনো স্বাদটা ঠিক থাকে।
📉 চাহিদা ও বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে আধুনিক কেক ও ডেজার্ট বাজারে এসেছে নানা ফ্লেভারে—ব্ল্যাক ফরেস্ট, ব্লুবেরি, রেড ভেলভেট ইত্যাদি। এর ফলে বাপুজী কেকের জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়েছে।
তবে এখনো প্রতিদিন প্রায় ৫০,০০০ কেক বিক্রি হয়, যা প্রমাণ করে যে মানুষের কাছে এর জায়গা আজও অটুট।
আলোকেশ জানার মৃত্যুর পর তাঁর দুই ছেলে—অমিতাভ ও অনিমেষ জানা—এই ব্যবসার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাঁরা এই ব্র্যান্ডকে পুরনো ঐতিহ্য বজায় রেখে ধরে রাখছেন।
বাপুজী কেক শুধু একটি কেক নয়—এটি একটি অনুভূতি।
বাঙালির জীবনের বহু মুহূর্ত জুড়ে রয়েছে এই কেকের সরলতা, স্বাদ ও স্মৃতি। আধুনিক সময়েও যখন বহু ব্র্যান্ড হারিয়ে যায়, তখন বাপুজী কেক আপন সাদামাটা পরিচয়ে এখনও বেঁচে আছে—একটা টিনের বাক্স, কাগজে মোড়া কেক, আর এক চিমটি নস্টালজিয়া নিয়ে।
👉 “বাপুজী কেক আজও সেই পুরনো ধরণের বিক্রির ধারা বজায় রেখেছে। এটি সাধারণত বড় সুপারমার্কেট বা অনলাইন স্টোরে নয়, বরং পাড়ার ছোট মুদি দোকান, স্কুলের পাশে ক্যানটিন, বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন বা ছোট স্টলে বিক্রি হয়। এইভাবে কেকটি এখনও সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে আছে।”
🧁 ৫০ বছর ধরে মধ্যবিত্তের সঙ্গী এই বাপুজী কেক
একটি কাগজে মোড়া সাধারণ কেক। দাম কম, প্যাকেজিং সাদামাটা, কিন্তু স্বাদে ভরপুর। এই সাধারণ কেকটি গত ৫০ বছর ধরে মধ্যবিত্ত বাঙালির জীবনের প্রতিদিনের অংশ হয়ে রয়েছে। তার নাম বাপুজী কেক—একটি নাম, যা শোনামাত্রই বহু মানুষের মুখে আসে এক চিমটি হাসি, এবং মনে জাগে হাজারো পুরনো স্মৃতি।
বাপুজী কেক শুধু একটি কেক নয়, বরং একটি সময়ের সাক্ষী। এটি আমাদের শৈশব, টিফিন, ট্রেনযাত্রা, স্কুলের রেসেস, আর মধ্যবিত্ত জীবনের এক অনবদ্য অংশ। আধুনিক বাজারে যখন নতুন নতুন প্যাকেজিং, দামি কেক আসে, তখনও এই সাদামাটা বাপুজী কেক মনে করিয়ে দেয়—“সাধারণের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আসল আনন্দ।”
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন